সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ , ১২:১১ পিএম


সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ফাইল ছবি

সৌদি আরবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সংবাদ সংস্থাটি জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ড্রোনগুলো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর ঘাঁটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া দেখা গেছে। 

আরও পড়ুন

এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ড্রোন দুটি ঠিক কোন দিক থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের এই পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটি দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং এখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল স্থাপনাগুলো অবস্থিত। চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ক্রমাগত এই অঞ্চলটিকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। বিশেষ করে মার্কিন ও সৌদি সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দু’দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

তবে পাল্টা হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ইরান। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে তৈরি করেছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। 

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission